
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার ঘটনায় আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা সত্ত্বেও স্টেশনগুলো বন্ধ রাখায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টে আবেদনটি জমা দেন শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠি। এতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ৯ অক্টোবর দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং দিল্লিগামী ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা একটি আবেদনের শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেন, ১০ অক্টোবর দিল্লিতে মেট্রো ও ভারতীয় রেলের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখা যাবে না।
আদালত বলেন, সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে। তবে এর ফলে সাধারণ মানুষকে অযথা ভোগান্তিতে ফেলা উচিত নয়। গণপরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদভাবে চালু রাখার বিষয়টি বিবেচনা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
এ ছাড়া গণপরিবহন চলাচলসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জনসাধারণকে স্পষ্টভাবে অবহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন আদালত। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংবাদপত্র ও অনলাইন মাধ্যমে ট্রাফিকবিষয়ক পরামর্শ প্রকাশের কথাও বলা হয়।
দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, নিরাপত্তার কারণে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৪৫টি স্টেশন বন্ধ থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পরও এসব স্টেশন বন্ধ রাখার অভিযোগ তুলে আবেদনকারী আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন।
আবেদনকারীর দাবি, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে স্টেশন বন্ধ রাখায় রাজধানীর সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে আদালত অবমাননার আবেদন জমা পড়লেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, এমন নয়। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর এখন নজর রয়েছে।
সিজেপির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও গণপরিবহন পরিচালনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আদালত অবমাননার আবেদন জমা পড়ল।
মন্তব্য করুন