
এগারো দলীয় জোটের ছয় দফা দাবিকে জনগণের দাবি উল্লেখ করে তা মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এসব দাবি এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি ‘খুবই ভয়াবহ’ হয়ে উঠতে পারে।

শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে রংপুর অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় ঐক্য’ এই কর্মসূচি পালন করছে।
শফিকুর রহমান বলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব দাবি নিয়ে মাঠে নামেননি; বরং জনগণের দাবি নিয়েই কর্মসূচিতে নেমেছেন। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবিগুলো মেনে নেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, বর্তমান দাবিগুলো ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। আজকের আট দফা নয় দফা বা দশ দফায় রূপ নিতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় এসব দাবি এক দফায় পরিণত হতে পারে।
জামায়াত আমির বলেন, এটি তাদের দ্বিতীয় লংমার্চ। এর আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই কর্মসূচির পর অনেকের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সরকারকে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানান।
সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দাবি মেনে নিতে ব্যর্থ হলে পরে আর কোনো কিছুতেই কাজ হবে না। তারা কোনো কিছু পরোয়া করেন না এবং দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবেন।
উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার তারেক রহমানের হাতে সুরক্ষিত নয়। বিএনপি সরকার মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও এমন কিছু আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণের পথ তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে তারেক রহমানকে কীভাবে পদত্যাগ করবেন, সে বিষয়টি ঠিক করতে হবে। এর আগে এরশাদও সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লংমার্চ কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, কর্মসূচিতে কোনো ধরনের ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীলতার পরিকল্পনা নেই। পুরো কর্মসূচিই শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, জনগণের দুর্ভোগ হয় এমন হরতাল বা অবরোধের মতো কর্মসূচি তারা দেননি। দাবি আদায়ের আন্দোলনে অতীতের রাজনৈতিক কর্মসূচির তুলনায় ১১ দলীয় জোট ভিন্ন ধরনের একটি মাইলফলক তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে জনগণের দাবি মেনে নিতে ব্যর্থ হলে জনস্রোতে বিএনপি ভেসে যাবে বলে মন্তব্য করেন মামুনুল হক।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদ বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে ইতোমধ্যে কান্না শুরু হয়েছে। তারেক রহমানের সরকারকে শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি তাকে সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি দেশবাসীকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
লংমার্চ কর্মসূচিতে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পাঁচটি পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। পরে রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
মন্তব্য করুন