
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো রং লাগানোর ঘটনায় দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় মারজিয়া খন্দকার রিমি ও মো. সুজন মিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। দুই দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পুলিশ তাদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে।

এর আগে একই মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। তাদের মধ্যে মো. সাকিবুস হাসান ও আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের তিন দিন করে এবং মারজিয়া খন্দকার রিমি ও মো. সুজন মিয়ার দুই দিন করে রিমান্ড দেওয়া হয়।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। পরে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল গাফফার হিমেল চার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
আবেদনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, উসকানিদাতা ও মদতদাতাদের খুঁজে বের করা, পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় জানা এবং অর্থায়নের উৎস শনাক্ত করতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৯ অক্টোবর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতিগুলো চুনকাম করে মুছে ফেলার ঘোষণা দেন ‘সংলাপ ফোরাম’-এর সভাপতি আল নূর মোহাম্মদ আয়াস। এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন শিল্পকলা একাডেমির ফটকের বিপরীত পাশের দেয়ালের কাছে চারজন একত্র হন। সেখানে আয়াসসহ অন্যরা বিভিন্ন বক্তব্য দেন। একপর্যায়ে মারজিয়া খন্দকার রিমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো রং লাগান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আসামিদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ দাবি করে, আল নূর মোহাম্মদ আয়াস পাকিস্তানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর কবর ও নামফলক নিয়ে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে, ভারতীয় আগ্রাসন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারির সময় মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে রিমি গ্রাফিতিতে কালো রং লাগান বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন মো. সাকিবুস হাসান (১৯) ও মো. সুজন মিয়া (১৮)। মামলার নথি অনুযায়ী, সাকিবুস হাসানের বাড়ি শেরপুরে, আয়াসের ময়মনসিংহে, সুজন মিয়ার লক্ষ্মীপুরে এবং রিমির কুমিল্লায়।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে আরও দাবি করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন না। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি, উসকানিদাতা, পরিকল্পনাকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আরও কয়েকজন পালিয়ে যান বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আসামিদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে রিমান্ড আবেদনে জানানো হয়। এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও আদালতে দাখিল করা হয়েছিল।
মামলাটির তদন্তের অংশ হিসেবে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন