
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের পাশাপাশি তার জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুক্রবার ভোরে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব।
পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে জামায়াতের ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে মদিনা থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান।
এ সময় বিমানবন্দরে আগমনী যাত্রীর বাড়তি চাপ থাকায় ট্রলি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম ভেঙে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লাগেজ আসতে দেরি হওয়া এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ‘উত্তেজিত’ হয়ে পড়েন এবং ‘অশোভন আচরণ’ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তথ্যমতে, বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-৫ আসনের এমপি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান। পরে নির্বাহী পরিচালক সেখানে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
এ সময় অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে এসে ‘অত্যন্ত রূঢ়, অশালীন ও অকথ্য ভাষায়’ গালিগালাজ করেন এবং মারধরের হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময় বিমানমন্ত্রীকে নিয়েও আখতারুজ্জামান অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া নিরাপত্তা সুপারভাইজার সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণে বাধা দিলে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন