
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে লোকালয়ে ঢুকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৯ জনকে কামড়ে আহত করা শিয়ালের মাথা পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। শিয়ালটির শরীরে জলাতঙ্কের জীবাণু ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতেই মাথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কেএম ইফতেখারুল ইসলাম। তিনি জানান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে শিয়ালের মাথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা ও জিগাবাড়ী এলাকায় হঠাৎ লোকালয়ে ঢুকে পড়ে শিয়ালটি। এরপর পথচারী ও বাড়ির আশপাশে থাকা মানুষের ওপর একের পর এক হামলা চালায়। এতে শিশু, নারী ও পুরুষসহ মোট ৯ জন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা শিয়ালটিকে ধরে পিটিয়ে মেরে একটি নির্জন স্থানে ফেলে রাখেন।
শিয়ালের কামড়ে আহতদের মধ্যে তালুক বেলকা গ্রামের চারজন হলেন-মো. জমশের আলীর স্ত্রী মোছা. নিলি বেগম (৪০), মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. সাদেক হোসেন (৭০), মো. আব্দুল হান্নান মিয়ার স্ত্রী মোছা. আফরুজা বেগম (৩৭) এবং মো. শফিউল ইসলামের ছেলে মো. শাওন মিয়া (৬)।
জিগাবাড়ী গ্রামের আহতরা হলেন—মো. মুকুল মিয়ার স্ত্রী মোছা. রাবেয়া বেগম (৩৮), তাঁর ছেলে মো. রাকিবুল হাসান (১৩), মো. ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. এনামুল হক (২৬), মো. আব্দুল আহাদ আলীর মেয়ে মোছা. আয়শা আক্তার (৩) এবং মো. আব্দুর রহিমের ছেলে মো. হাসান মিয়া (৭)।
আহতদের সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
পরে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের পরিদর্শন করে।
শিয়ালের হামলায় আহত ৯ জনকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। আহত নিলি বেগমকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং বাকি আটজনকে ৪ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
শিয়ালটি মারা যাওয়ার পরও এর শরীরে জলাতঙ্কের জীবাণু ছিল কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা শিয়ালের মাথা সংগ্রহ করে নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেন।
বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, শিয়ালটিকে মেরে নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে রাতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের লোকজন এসে সেটির মাথা নিয়ে যান। শিয়ালের বাকি অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে।
নমুনা সংগ্রহকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিয়ালটির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে মাথা কেটে নেওয়া হয় এবং বাকি অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। এ সময় বেলকা ইউনিয়নের ভ্যাকসিনেটর, এআই টেকনিশিয়ান ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কেএম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন শিয়ালটির মাথা সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। পরে কাটা মাথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিয়ালটির শরীরে জলাতঙ্কের জীবাণু ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্যই নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। শিয়ালের কামড়ে আহত নয়জনকেই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের কোনো শারীরিক সমস্যা নেই।
মন্তব্য করুন