
রাজশাহী রেলস্টেশনে শিক্ষার্থীকে মারধর এবং পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনার পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন-পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা, পাকশী বিভাগীয় চিকিৎসক কর্মকর্তা, পাকশী বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী এবং পাকশী কমান্ড্যান্ট, রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনী।
এর আগে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী রেলস্টেশনে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন স্টেশন বাজার এলাকায় রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে একদল শিক্ষার্থী রাজশাহী রেলস্টেশনের কার্যালয়ে গিয়ে ভাঙচুর চালান। রাত পৌনে ১টা পর্যন্ত সেখানে ভাঙচুর চলতে থাকে।
শিক্ষার্থী মারধরের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ টু রাজশাহী রেলস্টেশন’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে স্টেশনের দিকে রওনা হন। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার।
মারধরের শিকার শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাচাকে স্টেশন থেকে নিতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়েছিলেন আইয়ুব। সেখানে ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আইয়ুব ওই ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
আইয়ুবের সহপাঠী মোহাম্মদ মিজান বলেন, রেলস্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলওয়ের কর্মচারীদের বাগ্বিতণ্ডা চলছিল। পরে আইয়ুব তাদের পক্ষে কথা বললে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। বর্তমানে তিনি রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাপরিচালক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের অবরোধ ও রাকসুর জিএসের হুঁশিয়ারির বিষয়ে তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া স্বাভাবিক। তবে তাদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রেলওয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান মহাপরিচালক।
এদিকে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার রাজশাহী রেলওয়ের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাদের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
রাতভর উত্তেজনা ও বিক্ষোভের পর সোমবার সকাল থেকে রাজশাহী রেলস্টেশনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন