ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৬০ লাখ টাকার কাজ দৃশ্যমানভাবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে।

তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেছেন, সরকারি অনুমোদন নিয়ে বরাদ্দের অর্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং প্রকল্পগুলোর কাজ বর্তমানে চলমান।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় ধারা, ধুরাইল, কৈচাপুর, গাজিরভিটা, স্বদেশী ও জুগলী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কারের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নের অনুকূলে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী অর্থবছরের মধ্যেই সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একাধিক ইউনিয়নে দৃশ্যমান কোনো কাজ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন আহমদ জানান, বরাদ্দের বিষয়টি জানা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। অথচ ভবনের বিভিন্ন অংশে জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
ধুরাইল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বলেন, তিনি কোনো সংস্কারকাজ হতে দেখেননি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন কৈচাপুর ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী শফিকুর রহমান এবং গাজিরভিটা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুব্রত দেবনাথ। তাদের দাবি, গত অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বদেশী ও জুগলী ইউনিয়ন পরিষদের অবস্থাও একই।
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বলেন, গত ৩০ মে ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায়। বর্ষাকালে রংসহ বিভিন্ন সংস্কারকাজ করলে তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকায় কাজ শুরু করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে বরাদ্দের অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ছয়টি প্রকল্পের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে।
এর আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে ১ শতাংশ তহবিলের অর্থ বণ্টনে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময়ও তিনি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছিলেন।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কারের বরাদ্দ নিয়ে ওঠা অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি অর্থের ব্যবহার ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা হোক। পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন