
এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও ধ্রুপদী সাহিত্যের অধ্যাপক অ্যান কারসন। ধ্রুপদী সাহিত্যের ঐতিহ্যের সঙ্গে সাহসী ও উদ্ভাবনী মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যে নতুন আঙ্গিক তৈরির স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি চলতি বছরের সাহিত্যে নোবেলজয়ী হিসেবে অ্যান কারসনের নাম ঘোষণা করে।
নোবেল কমিটির ঘোষণাপত্রে তার সাহিত্যকর্মের মূল্যায়নে বলা হয়, অ্যান কারসনের সাহসী ও উদ্ভাবনী সৃষ্টিকর্ম ধ্রুপদী ঐতিহ্যের সঙ্গে এক সরস সংলাপের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন রূপ বা আঙ্গিক তৈরি করেছে।
প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও ধ্রুপদী ঐতিহ্যের ওপর অ্যান কারসনের রয়েছে গভীর পাণ্ডিত্য। গ্রিক ক্ল্যাসিক্যাল সাহিত্যের সঙ্গে আধুনিক চিন্তাধারার সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি সাহিত্যে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব ও স্বতন্ত্র একটি ধারা।
কারসনের উল্লেখযোগ্য ও বিশ্বনন্দিত রচনার মধ্যে রয়েছে ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ (১৯৯৮) এবং ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ (১৯৮৬)। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অনন্য সমন্বয়ের কারণে তার সাহিত্যকর্ম দীর্ঘদিন ধরে পাঠক ও সাহিত্যসমালোচকদের কাছে প্রশংসিত হয়ে আসছে।
১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া অ্যান কারসনের প্রায় পুরো সাহিত্যকর্মেই শব্দের অর্থ ও উৎস অনুসন্ধানের পাশাপাশি নতুন ভাবনা ও অর্থ সৃষ্টির প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। তিনি নিজেই বলে থাকেন, শব্দের ব্যুৎপত্তিই তার কাজের সূচনাবিন্দু।
প্রাচীন গ্রিক ভাষা থেকে কারসনের করা অনুবাদগুলোও স্বতন্ত্র সাহিত্যকর্ম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এর মধ্যে স্যাফোর কবিতার খণ্ডাংশ অবলম্বনে লেখা ‘ইফ নট, উইন্টার’ (২০০২), সফোক্লিসের ‘ইলেক্ট্রা’ (২০০১), ‘অ্যান্টিগনি’ (২০১৫) এবং ইউরিপিদিসের ‘বাক্কাই’ (২০১৫) উল্লেখযোগ্য।
মন্তব্য করুন