
তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার সংকট নিরসন, গণভোটে দেওয়া গণরায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবিতে শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে সরকার জনরোষের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন জোটের নেতারা।

শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলন চলাকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ। পরে তাকে সরিয়ে নেওয়ার পরও সংবাদ সম্মেলন অব্যাহত রাখেন জোটের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরের সমাবেশ শেষে লংমার্চ শুরু হবে। এতে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি অংশ নেবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাঁচটি স্থানে অনুষ্ঠিত হবে পথসভা।
তবে লংমার্চে অংশ নেওয়া গাড়িগুলো এসব পথসভায় থামবে না। সংশ্লিষ্ট এলাকার ১১ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা পথসভায় অংশ নেবেন। পথসভাগুলো হবে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘী ময়দানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে লংমার্চ।
দুর্ভোগ কমাতে লংমার্চ চলাকালে কোনো গাড়ি বহরে নতুন করে যুক্ত হতে পারবে না বলেও জানানো হয়েছে। পথসভাগুলো সংক্ষিপ্ত রাখতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারাও সেখানে বক্তৃতা করবেন না।
সরকারি দল বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লংমার্চে কোনো ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করা হলে সরকার আরও জনআস্থা হারাবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি দল ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই জনআস্থা হারাচ্ছে। লংমার্চে বাধা বা প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে তারা আরও আস্থা হারাবে এবং জনরোষের মুখোমুখি হবে। এ ধরনের অপরিণামদর্শী পদক্ষেপ থেকে সরকার ও সরকারি দল বিরত থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ছয় মাসে সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়—এটা তারা বোঝেন। অপরাধও একেবারে নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে নৃশংসতা, বর্বরতা, লুটপাট ও দলীয়করণ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা যেত। তার অভিযোগ, সরকার সে পথে না গিয়ে আগের পথেই হাঁটছে।
গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, গণভোটের গণরায়ে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ নেই। গণভোটে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়ে গেছে। ১১ দল সরকার উৎখাতের আন্দোলন করছে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষায়, জনগণের দাবি হলো গণভোটে দেওয়া গণরায় মেনে নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা।
বিরোধী দলগুলো সহিংসতার রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছে দাবি করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা রয়েছে-এটি প্রমাণের সুযোগ এসেছে। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ হলে এতে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির কোনো কারণ নেই।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। সবাই একসঙ্গে লংমার্চে অংশ নিলে দুষ্কৃতিকারীরাও ভয় পাবে। তবে লংমার্চে হামলা হলে এর দায় সরকারি দলকে নিতে হবে এবং তারা এর শক্ত জবাবও পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পাটওয়ারী আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ফ্যামিলি ব্যবসা শুরু করেছেন। আগে এ ধরনের ব্যবসা গোপালগঞ্জে ছিল, এখন বগুড়ায় শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলের দুর্নীতির খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হতে দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের আগে ১১ দলের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলডিপির জোট নেতারাও অংশ নেন। একই দিন রাজধানীতে লংমার্চের প্রচারে থানায় থানায় মিছিল করে জামায়াত।
এদিকে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চে সরকার কৌশলে বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছে এনসিপি।
শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারে মহানগর এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ১১ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য নির্ধারিত কক্ষগুলো দুই মন্ত্রীর নামে বুকিং দেখিয়ে তাদের সেখানে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজাউদ্দিন এবং মহানগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইবও বক্তব্য দেন।
এদিকে লংমার্চকে স্বাগত জানিয়ে শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী।
মন্তব্য করুন