
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। যোগদানের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ১৪ হাজার নতুন সহকারী শিক্ষককে পদায়ন করার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন শিক্ষকদের পদায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। নতুন শিক্ষকদের পদায়ন সম্পন্ন হলে আবার বদলি কার্যক্রম চালু করা হবে।
মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১টি জেলায় ১ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২১ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনের ফল প্রকাশ করা হয়। পরে মৌখিক পরীক্ষা শেষে ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়।
তবে চূড়ান্ত সুপারিশের পরও এসব শিক্ষকের নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়া কয়েক মাস ধরে আটকে ছিল। নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তাদের যোগদান বিলম্বিত হয়। জুন মাসেও তাদের যোগদান ও পদায়ন নিয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর থেকে নতুন শিক্ষকদের যোগদান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং ৪ অক্টোবর থেকে তাদের পদায়ন শুরু হতে পারে। পদায়নের পর নতুন শিক্ষকদের দুই মাসের বিশেষ পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে প্রশিক্ষণের সুনির্দিষ্ট সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর যশোরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছিলেন, আটকে থাকা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষকের নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করে অক্টোবর থেকে পদায়ন শুরু করা হবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই নিয়োগ সম্পন্ন করার আশা করছে সরকার।
কেন বদলি স্থগিত?
মূলত নতুন শিক্ষকদের পদায়নের সময় যাতে বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষকসংখ্যা ও শূন্যপদের হিসাব এলোমেলো না হয়, সে কারণেই আপাতত বদলি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৪ হাজার নতুন শিক্ষককে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়নের আগে বিদ্যমান শিক্ষকদের বদলি করা হলে পদসংখ্যা ও শিক্ষক ঘাটতির হিসাব পুনর্বিন্যাস করতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের পদায়ন শেষ করেই বদলি কার্যক্রম ফের চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এর আগে বদলি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ
প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জুন মাসে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, শিক্ষক বদলিকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক বদলির আবেদন ও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও ৬ সেপ্টেম্বর ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বদলি ও পদায়ন’ সংক্রান্ত অফিস আদেশ প্রকাশিত হয়েছে।
কবে আবার বদলি শুরু হবে?
এ মুহূর্তে শিক্ষক বদলি চালুর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৪ হাজারের বেশি নতুন শিক্ষকের পদায়ন সম্পন্ন হওয়ার পরই বদলি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। অর্থাৎ, নতুন শিক্ষকদের যোগদান ও পদায়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ওপরই পরবর্তী বদলির সময়সূচি নির্ভর করছে।
সংক্ষেপে:
বদলি: ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
নতুন শিক্ষক: ১৪ হাজার ৩৮৪ জন
যোগদান: ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা
পদায়ন: ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা
প্রশিক্ষণ: পদায়নের পর দুই মাসের বিশেষ পেশাগত প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা
বদলি পুনরায়: নতুন শিক্ষকদের পদায়ন শেষ হলে চালু হবে।
মন্তব্য করুন