
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম মন্তব্য করেছেন, কোনো আদর্শিক গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইতিহাস থেকেই মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কোনো দলে যোগ না দিলে প্রতিষ্ঠাতা বা নীতিনির্ধারকদের একজন হলেও সেই দলের ইতিহাসে তার নাম উপেক্ষিত হতে পারে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টের শুরুতে মাহফুজ আলম লেখেন, ‘মুক্তির দিনে এসে এসব বেমানান, তবু জানিয়ে যাই, ইতিহাস এক মাছের পুকুর কিংবা বাজার।’
ইতিহাসের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের মাৎস্যন্যায় তো বাস্তব। বড় মাছ মেজো বা ছোট মাছকে গিলে খাবে। মেজো বা ছোট মাছ আবার বড় হয়ে অন্যদের গিলে খাবে। গত দুই বছরে কি হয়নি এসব? আবারও হবে। সময় এলে সেখানে অন্যরা থাকবে না।’
মাহফুজ আলম আরও লেখেন, কোনো আদর্শিক গোষ্ঠীর বিরোধিতা করলে একজন মানুষকে এমনভাবে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়, যেন তিনি কখনো ছিলেনই না। আর যদি থাকেনও, তাহলে তাকে ‘গাদ্দার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বিপরীতে, সেই আদর্শিক গোষ্ঠীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললে সহজেই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত হওয়া সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই পোস্টে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ না দিলে, সেই দলের প্রতিষ্ঠাতা বা নীতিনির্ধারকদের একজন হয়েও দলের নেতাকর্মীরা তার নাম উল্লেখ করেন না। এমনকি দলের তৈরি কোনো ঘটনার ইতিহাসেও তার নাম থাকে না; থাকলেও দায় চাপানোর প্রসঙ্গেই তা উল্লেখ করা হয়। অথচ ওই ঘটনার নীতিনির্ধারণে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে।
পোস্টের শেষাংশে মাহফুজ আলম লেখেন, যার হাতে ক্ষমতা থাকে, শেষ পর্যন্ত ইতিহাসও তারাই লেখে। তার মতে, রাজনৈতিক দল বা আদর্শিক গোষ্ঠীগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ইতিহাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং ক্ষমতায় গেলে কাদের ইতিহাস লেখা হবে আর কাদের বাদ দেওয়া হবে, সেটিও তারা নির্ধারণ করে।
মন্তব্য করুন