
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। বাড়ছে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি, আর কমছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি। তবে বড় ধরনের মন্দা এখনো এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি ২ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) অবশ্য চলতি বছর ২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাগুলোর মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, উচ্চ সুদহার ও বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
জাতিসংঘের হিসাবে, ফেব্রুয়ারির পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সময়ে ডিজেল, জেট ফুয়েল ও হিটিং অয়েলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ওইসিডির মহাসচিব ম্যাথিয়াস করম্যান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। সরকারগুলোর নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতের ধাক্কা কতটা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
তবে জ্বালানি সংকটের মধ্যেও অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক বিনিয়োগ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এআই অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি ও শিল্প কর্মকাণ্ডে গতি তৈরি করছে। এর প্রভাব পড়ছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানিতেও।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্য ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস ও অন্যান্য এআই-সম্পর্কিত পণ্যের চাহিদা এই প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
তবে জ্বালানি বাজারে আরও বড় ধরনের সরবরাহ বিঘ্ন, আর্থিক বাজারের অস্থিরতা, এআই খাতে বিনিয়োগের সম্ভাব্য সংশোধন এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে আরও চাপে ফেলতে পারে বলে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো উচ্চ ঋণ ব্যয় ও সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে এসব ধাক্কায় তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
মন্তব্য করুন