
শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়ায় গার্মেন্টস খাতে সংকট বাড়ছে: শফিকুর রহমান
দেশ বর্তমানে বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার দাবি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প খাতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তবে ছয় মাস সময় পেলেও এই সংকট মোকাবিলায় সরকার কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পও জ্বালানি সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে।
শফিকুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির কারণে অনেক কারখানার উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। উৎপাদন কমে গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে এবং তারা খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টিম গঠন করে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানান জামায়াত আমির। তবে সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, সংকট সমাধানে সরকারকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিল। শুরুতে সরকার বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টিও অস্বীকার করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণেই জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলো লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছে।
জামায়াত আমির বলেন, তারা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে।
তিনি বলেন, তারা গণভোটের পক্ষে ছিলেন এবং জনগণও এ বিষয়ে সাড়া দিয়েছে। কিন্তু সরকার জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ করে গণভোটের রায় অমান্য করেছে। জনগণের রায়কে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বগুড়ার উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বগুড়া উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একসময় বগুড়াকে ‘মিনি শিল্পনগরী’ বলা হলেও স্বাধীনতার পর সেখানে প্রত্যাশিত শিল্পায়ন হয়নি।
বগুড়া কেন এতটা অবহেলিত-সে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তারা চান বগুড়া তার ন্যায্য পাওনা ফিরে পাক।
এর আগে শনিবার সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল গ্রামে বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের প্রথম নিহত আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।
পরে তিনি শহীদ মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
দুপুর ১২টায় বগুড়ার একটি পাঁচ তারকা হোটেল ও রিসোর্টে আয়োজিত রুকন সম্মেলনে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন