
জাপানের রাজধানী টোকিওতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬। এ উপলক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

দিবসের কর্মসূচির শুরুতে দূতাবাসের সম্মেলন কক্ষে শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
আলোচনা সভায় জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাদের মুক্তিযোদ্ধাদের মতো দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণমূলক সুবিধার আওতায় আনা অত্যন্ত প্রয়োজন।
তিনি জাতীয় ঐক্য ও দেশ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে গণআকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় বর্তমান সরকারের কল্যাণমুখী উদ্যোগগুলোকে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি গঠনমূলক পরামর্শের মাধ্যমে নাগরিক দায়িত্ব পালন করারও আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুশাসিত ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান সরকার তাদের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। নাগরিক সেবা সহজ করতে ইতোমধ্যে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্যাসিস্ট আমলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলার থাকলেও বর্তমানে তা ৩৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যেখানে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তিনি বৈধ ও অফিশিয়াল ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে জাপানে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন