
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাসের হার নেমে এসেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে। গত ১৯ বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পাসের হার। অর্থাৎ ২০০৭ সালের পর এবারই মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট।
এবার মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ।
গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সে হিসাবে এবার পূর্ণাঙ্গ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। মাদ্রাসা বোর্ডে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
বরাবরের মতো এবারও পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই ক্ষেত্রেই মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। ছেলেদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ হলেও মেয়েদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪ ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন। অন্যদিকে ৯ লাখ ১১ হাজার ৭৯১ ছাত্রীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন।
জিপিএ-৫ পাওয়া এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী এবং ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র।
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গত কয়েক বছরে পাসের হারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২১ সালে দেশে রেকর্ড ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। এর বিপরীতে ২০০৭ সালে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এবার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ পাসের হার নিয়ে ২০০৭ সালের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।
এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২১ এপ্রিল। ২০ মে এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয়। আর দাখিল এবং এসএসসি ও ভোকেশনালের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।
তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের দীর্ঘদিনের রেওয়াজ থাকলেও এবার তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত সোমবার সকাল ১০টায় একযোগে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ফল প্রকাশ করা হয়।
সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছে।
মন্তব্য করুন