skynews
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

হাসানুল হক ইনুর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, তিন অভিযোগে ১০ বছরের সাজা

হাসানুল হক ইনুর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, তিন অভিযোগে ১০ বছরের সাজা

জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ৫০০ পৃষ্ঠার রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করেন ট্রাইব্যুনাল।

হাসানুল হক ইনুর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, তিন অভিযোগে ১০ বছরের সাজা

এদিকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, আপিলের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ জুন ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটির জন্য ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় মোট ১০ বছরই কারাভোগ করতে হবে তাকে।

যেসব অভিযোগ প্রমাণিত

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের ঘটনায় তার দায় প্রমাণিত হয়েছে। এ অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ষষ্ঠ অভিযোগে ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইনুর ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগেও তার দায় প্রমাণিত বলে উল্লেখ করেছেন।

সপ্তম অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সহযোগিতার দায়ে ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আরেকটি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তিতে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।

See also  এলপিজি আমদানি পর্যাপ্ত, তবু বাজারে সংকট-মজুতের অভিযোগে এনএসআইয়ের নজরদারি

যেসব অভিযোগে খালাস

ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনু জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ইনু ওই সভায় উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহযোগিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। তবে অভিযোগটি প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছিল, আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তাদের একটি তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছিলেন ইনু। এই অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে।

চতুর্থ অভিযোগে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি ছত্রীসেনা নামানো এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনায় ইনুর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পঞ্চম অভিযোগে গণমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের উসকানি এবং সরকার পরিচালিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন-নিপীড়নকে সমর্থনের অভিযোগ করা হয়। তবে দুটি অভিযোগই প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

অষ্টম অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলনকারী ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনকে হত্যায় নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। একই সঙ্গে সারা দেশে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও ছিল। এই অভিযোগও প্রমাণিত না হওয়ায় ইনুকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

See also  ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি

শাপলা চত্বরের মামলাও বিচারাধীন

এদিকে হাসানুল হক ইনু শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলাতেও বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৩ সালে তথ্যমন্ত্রী থাকার সময় শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনুষ্ঠিত কোর কমিটির বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১-এর চার প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষর

১

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তালিকা পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ ইসির, তথ্য দিতে হবে ৮ নভেম্বরের মধ্যে

২

হামের টিকা কেনায় অনিয়ম তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন গঠন

৩

খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

৪

ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত সাবেক এমপি মেজর আখতারের ছেলে, ঢাকায় পাঠানো হলো

৫

১২ দেশে কর্মী পাঠাতে মন্ত্রণালয়ের আগাম অনুমতি বাধ্যতামূলক, বায়রার নির্দেশনা

৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, বগুড়া ইউনিটের নৈশভোজ অনুষ্ঠিত

৭

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের

৮

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থিদের তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

৯

হত্যাচেষ্টা মামলায় পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

১০

ট্রাম্পকে হত্যার হুমকির বার্তা, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলবিরোধী বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে তেহরান

১১

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের ছবি তুললেই হামলা, আড়াল করতে চায় কারা?

১২

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের দাবিতে আগারগাঁওয়ে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের

১৩

ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে ছাতকে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

১৪

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১৫

৫১তম বিশেষ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১১ ডিসেম্বর, আবেদন করেছেন ৪৪ হাজার ৬৩৫ জন

১৬

ডিসেম্বরের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, জানুয়ারির বেতনে কার্যকর

১৭

সাভারে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, নিরাপত্তায় ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

১৮

সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মধ্যে নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার পাল্টা কর্মসূচি

১৯

আশুগঞ্জ সার কারখানা পুলিশ ক্যাম্পে এসআইয়ের গুলিতে আত্মহত্যা

২০