
বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের শেরেবাংলা গ্রামে সেতু নির্মাণ শেষ হলেও তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক ও সুরক্ষা দেয়াল। প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ও শেষ হয়েছে প্রায় দুই মাস আগে। ফলে সেতুটি স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার বদলে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিরুপায় হয়ে দুই গ্রামের শত শত মানুষ সেতুতে ওঠানামার জন্য বাঁশ ও সুপারি গাছ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী পথ ব্যবহার করছেন। এতে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ চলাচল করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম বেতাগী-বরগুনা আঞ্চলিক সড়কের পাশে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের অধীনে ৩২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। গত জুনে প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো সংযোগ সড়ক ও প্রটেকশন ওয়ালের কাজ শেষ করেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির একটি প্রান্ত পানিতে ডুবে রয়েছে। এরই মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সেতুর বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।
সেতুর পূর্ব পাশে রয়েছে উত্তর করুণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেঁতুলিয়া বাজার, একটি মাদ্রাসা ও কয়েকটি জামে মসজিদ। এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মুসল্লি ও বাসিন্দারা।
তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুতে উঠতে গিয়ে তাদের ভোগান্তি ও আতঙ্কের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সেতুর সঙ্গে বাঁশ ও সুপারি গাছ বসিয়ে অস্থায়ী চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক মো. শানু বলেন, সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় ছোট শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাঁশ ও সুপারি গাছের ওপর দিয়ে পার হতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রব ও জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহ জালাল জানান, প্রতিদিন চলাচল ও ইবাদতের জন্য এলাকাবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
তবে ঠিকাদার মো. প্রিন্স এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে সংযোগ সড়কের কাজ করা সম্ভব হয়নি। বর্ষা শেষ হলে সংযোগ সড়ক ও সুরক্ষা দেয়ালের বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।
বেতাগী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। বর্ষার কারণে কাজ আটকে থাকলেও আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, সেতুটির কাজে অনিয়ম ও ত্রুটির প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ার পর ঠিকাদারের বিল স্থগিত রাখা হয়েছে। যেসব স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, সেগুলোও সংশোধন করতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংযোগ সড়কসহ প্রকল্পের সব কাজ বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারকে সরকারি বিলের কোনো টাকা পরিশোধ করা হবে না।
ইউএনও আরও বলেন, সেতুটিতে কিছু সমস্যা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তদন্তও করা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের আগে সেখানে কাজ করা সম্ভব হবে না। সেতুটির বিল পরিশোধের বিষয়টিও এখনো প্রক্রিয়াধীন। প্রকল্পের সব কাজ শেষ হওয়ার পর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিল পরিশোধ করা হবে।
মন্তব্য করুন