
চাঁদপুরের হাইমচরে চার বছরের এক শিশুকে দংশন করা রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) ধরে প্লাস্টিকের বোতলে ভরে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে গেছেন বাবা। পরে শিশুটিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। দংশনের শিকার শিশু মরিয়ম হাইমচর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের নীলকমল ইউনিয়নের শেখকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেনের মেয়ে।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে বাড়ির সামনে খেলছিল মরিয়ম। খেলা শেষে ঘরে ফেরার সময় হঠাৎ একটি রাসেলস ভাইপার তার পায়ে দংশন করে। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
মেয়েকে সাপে দংশনের পর সাপটির খোঁজে বের হন বাবা মনির হোসেন। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তিনি রাসেলস ভাইপারটিকে দেখতে পান এবং একটি প্লাস্টিকের বোতলে সেটিকে আটকে ফেলেন। এরপর মেয়েকে কোলে নিয়ে এক হাতে বোতলবন্দি সাপটি নিয়ে প্রথমে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। পরে সেখান থেকে শিশুটিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা দ্রুত মরিয়মের চিকিৎসা শুরু করেন। তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসা শুরুর পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে ঝুঁকি বিবেচনায় তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আসিবুল হাসিব বলেন, সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে আনার কারণে শিশুটিকে সময়মতো অ্যান্টিভেনম দেওয়া সম্ভব হয়েছে। রাসেলস ভাইপারের বিষ শরীরে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে শিশুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাপটি সঙ্গে করে নিয়ে আসায় সেটি শনাক্ত করা সহজ হয়েছে। তবে সাপে কাটার পর প্রথমেই রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সাপ ধরতে গিয়ে যেন অন্য কেউ দংশনের শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
শিশুটির বাবা মনির হোসেন জানান, মেয়েকে সাপে কাটার পর তিনি দ্রুত সাপটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। পরে সেটিকে বোতলে আটকে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে চলে আসেন। ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করে তিনি সরাসরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে চাঁদপুরের মেঘনা নদীর চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির সাপের উপস্থিতি বেড়ে যায়। চরাঞ্চলের বসতবাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় ও ঘাসের মধ্যেও প্রায়ই সাপ দেখা যায়। সাপে কাটার ঘটনা ঘটলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
চিকিৎসকেরা বলেন, সাপে কাটার পর যত দ্রুত সম্ভব আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিতে হবে। তাকে অযথা হাঁটানো, ক্ষতস্থানে কাটা দেওয়া, বিষ চুষে বের করার চেষ্টা কিংবা ঝাড়ফুঁকে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াই এ ধরনের রোগীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য করুন