
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর তাঁর সফর নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দল।

স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টায় ম্যানহাটনে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানস্থল ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলের লবিতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, চার দিনের সফরে ১০টির বেশি দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় ও সৌজন্য সাক্ষাৎ রয়েছে। এর বাইরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলাদা বৈঠকের কোনো সুযোগ বা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কি না।
জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান সফরটি দ্বিপক্ষীয় নয়, বরং বহুপক্ষীয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়াই এ সফরের মূল উদ্দেশ্য। তাই এ সফরে জাতিসংঘের কার্যক্রমের বাইরে আলাদা দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বা বৈঠকের সুযোগ খুব বেশি থাকবে না।
তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি চিঠি দিয়েছেন এবং সেখানে বৈঠকের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে সেটি দ্বিপক্ষীয় সফরের প্রেক্ষাপটে উপযুক্ত সময়ে দুই পক্ষের সুবিধা অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে গত ৩১ আগস্ট চিঠি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো চিঠি তিনি পেয়েছেন। উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তিনি তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান।
একই চিঠিতে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, অদূর ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হবে। বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বোয়িং তাকে হতাশ করবে না এবং তিনিও বিষয়টি ভুলবেন না।
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে এই সফরে তেমন আলোচনা হবে না বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, সফরের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরা। গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ কোন নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চায় এবং নতুন বাংলাদেশের জন্য কী ধরনের ভিশন তৈরি হচ্ছে, সেসব বিষয় বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সফরে বহুপক্ষীয় আলোচনা বেশি গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আলোচনার সুযোগ খুব সীমিত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩৩ জন। এর বাইরে প্রয়োজনীয় মিডিয়া, নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত স্টাফরা রয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবার তুলনামূলকভাবে ছোট একটি বহর নিয়ে সংক্ষিপ্ত সফরে নিউইয়র্কে এসেছেন।
মাহ্দী আমিন আরও বলেন, সীমিতসংখ্যক সফরসঙ্গী নিয়ে আসার মূল উদ্দেশ্য হলো দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী যেন বাংলাদেশের স্বার্থ, গণমানুষের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়গুলো কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
মন্তব্য করুন