
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একই পরিবারের বাবা, মা ও সন্তানের বক্তব্য দেওয়ার কোনো নজির খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘে ভাষণের মধ্য দিয়ে এমন একটি ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে, যা গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পাওয়ার মতো।

নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি গুগল, চ্যাটজিপিটিসহ ১৭টি এআই প্ল্যাটফর্মে অনুসন্ধান করেছেন। তাঁর দাবি, বাবা, মা ও সন্তান—তিন প্রজন্মের কারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার নজির তিনি খুঁজে পাননি।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের জাতিসংঘে ভাষণের পর বিষয়টি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পাওয়ার মতো বলে তাঁর মনে হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে তারা গর্বিত ও আনন্দিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের স্লোগানে বিমানবন্দর এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের ওই নেতা। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশের কিছু ‘অপশক্তি, দুষ্কৃতকারী ও পলায়নকারী’ ব্যক্তি নিউইয়র্কে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডের কথা বলেছিল। তবে তারা কোনো কিছু করতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার সৈনিক, বেগম জিয়ার সন্তান এবং তারেক রহমানের কর্মীরা একজনও জীবিত থাকা পর্যন্ত তাদের নেতার ওপর হামলার কোনো চেষ্টা হলে ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যোগ দিতে নিউইয়র্কে এসেছেন। এ উপলক্ষে সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তারা উপস্থিত হয়েছেন।
বক্তার দাবি, ‘পতিত, পলাতক খুনি হাসিনার কিছু দোসর’ তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়েছে। এসব হুমকি প্রতিহত করতেই তারা নিউইয়র্কে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ সময় বিমানবন্দরে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে এসেছেন।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাবা, মা ও সন্তানের পারিবারিক ধারাবাহিকতায় বক্তব্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্য আরও একটি ইতিহাস তৈরি হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রায় ৪০ বছর পর বাংলাদেশ ১৯৩টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের এ সাফল্যের জন্য দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান ওই নেতা। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকেও সবাইকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
মন্তব্য করুন