
মালয়েশিয়ায় কাজ করতে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে। অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে এ পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক বার্তায় মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

সরকারের দীর্ঘ কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও উন্মুক্ত হয়েছে বলে গত ১৫ অক্টোবর জানিয়েছিল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। দেশটিতে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। পাশাপাশি বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতেও সম্মতি দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁদের অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে যেতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী দেশটিতে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন। এ কারণে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় কার্যকর করা এবং স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মেডিকেল সেন্টারকে একক কর্তৃত্ব দেওয়া হবে না। কর্মীরা যাতে সহজে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পান, সে লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জব অর্ডার সংগ্রহ
মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি নিজেদের উদ্যোগে দেশটির শ্রমবাজার থেকে জব অর্ডার বা কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সংগ্রহ করতে পারবে।
কর্মী নির্বাচন
যে রিক্রুটিং এজেন্সি জব অর্ডার সংগ্রহ করবে, তারা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে নিজস্ব কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অর্থাৎ, কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এজেন্সির হাতেই থাকবে।
মালয়েশিয়ায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন
কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং তালিকাভুক্ত অপর ২৫টি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি সহায়তা দেবে।
বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স
মালয়েশিয়ার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের আইন ও নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত প্রতিটি বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব নিয়োগ করা কর্মীদের জন্য নিজেদের রিক্রুটিং লাইসেন্সের অধীনেই বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে। অর্থাৎ, যে এজেন্সি জব অর্ডার সংগ্রহ করবে এবং কর্মী নির্বাচন করবে, সেই এজেন্সিই নিজস্ব লাইসেন্সের মাধ্যমে কর্মীদের সরকারি ছাড়পত্রের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে।
এ ক্ষেত্রে বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত অপর ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে। বিএমইটির ছাড়পত্রের জন্য তারা অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে।
মন্ত্রণালয় মনে করছে, এ ব্যবস্থার ফলে প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সির নিজস্ব দায়িত্ব, জবাবদিহি ও ব্যবসায়িক স্বাধীনতা বজায় থাকবে এবং মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল হবে।
মন্তব্য করুন