
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ পাঁচগুণ বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধান অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীদের জামানত ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের তুলনায় নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা দ্বিগুণ হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ না পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
বুধবার নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬’-এর সংশোধনীর চূড়ান্ত গেজেটে এসব বিধান যুক্ত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার গেজেটে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষর করলেও তা বুধবার প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত মাসে ইউপি নির্বাচন বিধিমালার সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ভেটিং ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে এবার চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হলো।
স্থানীয় সরকারের অন্য চার প্রতিষ্ঠান-উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের নির্বাচন বিধিমালার সংশোধনীগুলোও আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীকে ৫ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। ট্রেজারি চালান, পে-অর্ডার অথবা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুকূলে এ অর্থ জমা দিতে হবে।
একই প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলেও একাধিকবার জামানত দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
জামানত ফেরতের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ পেলে তাঁর জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
তবে ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য কোনো প্রার্থী সরকারি গেজেটে নির্বাচনি ফলাফল প্রকাশের পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে সেই অর্থ গ্রহণ না করলে তা আর ফেরতযোগ্য থাকবে না। ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচনের আগে প্রচারণার সময়ও বিধিমালার এসব বিধান কার্যকর থাকবে। বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কার্যক্রমে অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য তপশিলি ব্যাংকে পৃথক ব্যাংক হিসাব খোলার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। নির্বাচনি ব্যয়ের সব অর্থ ওই হিসাবের মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে।
কোনো একটি খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয় হলে তা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে বলে সংশোধিত বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন